বাংলাদেশে সফটওয়্যার কোম্পানি বাছাই করবেন কীভাবে
যে যাচাইগুলো আসলে গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বের ক্রম অনুযায়ী — এমন একজনের কাছ থেকে, যাকে প্রায়ই ভুল সিদ্ধান্তের পরে ডাকা হয়।
লিখেছেন BetterSoftZ Engineering, ঢাকা
বাংলাদেশে সফটওয়্যার কোম্পানি বাছাই মূলত পাঁচটি যাচাইয়ের ব্যাপার: কোড ও অ্যাকাউন্টের মালিক কে, যাঁরা কাজটি বিক্রি করলেন তাঁরাই কাজটি করবেন কি না, পরিবর্তনের দাম কীভাবে ঠিক হয়, লঞ্চের পরে কী হয়, এবং আপনার তাদের দরকার না থাকলে কোম্পানিটি সেটা বলবে কি না। এগুলোর যেকোনোটির তুলনায় দাম একটি দুর্বল সংকেত।
মালিকানা দিয়ে শুরু করুন
প্রযুক্তি নিয়ে কোনো কথার আগে নিশ্চিত করুন, কী কী আপনার মালিকানায় থাকবে:
- সোর্স কোড, আপনার প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব রিপোজিটরিতে, প্রথম কমিট থেকেই — শেষে একটি জিপ ফাইল হিসেবে হাতে দেওয়া নয়।
- হোস্টিং, ডোমেইন ও অ্যাপ স্টোর অ্যাকাউন্ট, আপনার নামে।
- ডেটাবেস, এমন ব্যাকআপসহ যা আপনি নিজেই রিস্টোর করতে পারেন।
আমরা যত রেসকিউ কাজ হাতে নিই, তার বড় একটি অংশ শুরু হয় যখন ক্লায়েন্ট আবিষ্কার করেন যে এর কোনোটিই তাঁর নয়। এগুলো ফেরত আনা কখনো কখনো সফটওয়্যারটি নতুন করে তৈরির চেয়েও কঠিন।
আসলে কারা কাজটি করবেন, যাচাই করুন
যাঁদের প্রজেক্টে দেওয়া হবে তাঁদের নাম ও সিভি চান, এবং তাঁদের সাথে কথা বলতে চান। সিনিয়রদের দিয়ে বিক্রি আর জুনিয়রদের দিয়ে ডেলিভারি — এই বাজারে এটাই সবচেয়ে সাধারণ হতাশা। তারপর জিজ্ঞেস করুন, তাঁদের কেউ চলে গেলে কী হবে — যে কোম্পানি ধারাবাহিকতা নিয়ে ভেবেছে, তাদের উত্তর তৈরিই থাকবে।
পরিবর্তন কীভাবে সামলানো হয়, জিজ্ঞেস করুন
রিকোয়ারমেন্ট বদলাবেই। আসল প্রশ্ন হলো এর জন্য কোনো ব্যবস্থা আছে কি না:
- নির্দিষ্ট সময় পরপর কি স্কোপ পর্যালোচনা করা হয়?
- পরিবর্তন গ্রহণের আগেই কি তার দাম জানানো হয়, নাকি ইনভয়েসে গিয়ে ধরা পড়ে?
- জায়গা করার জন্য কোনো কিছু বাদ দেওয়া যায়, নাকি প্রতিটি সংযোজনেই খরচ বাড়ে?
“আমরা ফ্লেক্সিবল” কোনো ব্যবস্থা নয়। এর মানে সাধারণত পরিবর্তনগুলো চুপচাপ মেনে নেওয়া হয়, যতক্ষণ না প্রজেক্ট পিছিয়ে পড়ে।
লঞ্চের পরে কী হয়, জিজ্ঞেস করুন
বেশিরভাগ সিস্টেমে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ লাগে গো-লাইভের পরের তিন মাসে, যখন বাস্তব ব্যবহারে এমন বিষয় সামনে আসে যা টেস্টিংয়ে ধরা পড়েনি। জিজ্ঞেস করুন সাপোর্টের খরচ কত, রেসপন্স টাইম কেমন, এবং একই ইঞ্জিনিয়াররা পাওয়া যাবেন কি না। যে কোম্পানি লঞ্চের পরের কথা ভাবেনি, সে তখন পাশে থাকবে না।
তারা কী কিনতে নিষেধ করে, সেদিকে খেয়াল রাখুন
সবচেয়ে শক্তিশালী সংকেত হলো যখন কোনো ভেন্ডর বলে যে কোনো কিছু আপনার দরকার নেই: একটি তৈরি সফটওয়্যার প্যাকেজই আপনার জন্য ভালো হবে, কোনো ফিচার অপেক্ষা করতে পারে, কিংবা অটোমেট করার আগে প্রক্রিয়াটি ঠিক করা দরকার। যে কোম্পানি সব কিছুতেই রাজি, সে পরামর্শ দিচ্ছে না — বিক্রি করছে।
যাচাইয়ের ব্যবহারিক ক্রম
- কোড, অ্যাকাউন্ট ও ডেটার মালিকানা — এখানে কোনো ছাড় নেই।
- নির্দিষ্ট নামের মানুষ, এবং তাঁরা চলে গেলে ধারাবাহিকতা।
- পেইড ডিসকভারির মাধ্যমে তৈরি লিখিত স্কোপ।
- পরিবর্তনের এমন ব্যবস্থা যা আপনি বোঝেন।
- লঞ্চ-পরবর্তী সাপোর্টের শর্ত, একই চুক্তিতে।
- দাম — সবার শেষে, এবং শুধু সমান স্কোপের মধ্যে তুলনা করে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
কোম্পানির আকার কি গুরুত্বপূর্ণ?
মানুষ যতটা ভাবেন, ততটা নয়। বড় কোম্পানিও আপনার প্রজেক্টে জুনিয়রদের বসাতে পারে, আবার ছোট টিমও দারুণ হতে পারে। আসল বিষয় হলো ঠিক কারা এতে কাজ করবেন এবং সেটা চুক্তিতে লেখা আছে কি না।
রেফারেন্স চাওয়া উচিত কি?
হ্যাঁ, এবং এমন একজন ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলতে চান যাঁর প্রজেক্ট কোনো এক সময় খারাপ দিকে গিয়েছিল। প্রতিটি কোম্পানিরই এমন একটি আছে। তারা সেটা কীভাবে সামলেছে তা কীভাবে বর্ণনা করে, সেটাই একটি চকচকে সাফল্যের গল্পের চেয়ে অনেক বেশি কিছু বলে দেয়।
সবচেয়ে বড় সতর্কসংকেত কোনটি?
আপনার প্রক্রিয়া কেউ ম্যাপ করার আগেই একটি ফিক্সড প্রাইস বলে দেওয়া। এর মানে হয় স্কোপ বোঝা হয়নি, নয়তো সংখ্যাটি শুধু দরজা খোলার জন্য — আপনি একবার জড়িয়ে গেলে সেটা নিয়ে আবার দর-কষাকষি হবে।
এই সিদ্ধান্তটি কি নিজেই নিচ্ছেন?
আপনার পরিস্থিতি জানান, আমরা বলব আমরা হলে কী করতাম — উত্তর যদি হয় আমাদের নিয়োগ না দেওয়া, সেটাও।